ধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে বের করে দেয়ায় শিক্ষিকাকে শোকজ

মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে ধর্ষণের শিকার এক মেয়েকে স্কুল থেকে বের করে দেয়ায় সেই প্রধান শিক্ষিকা শামিমা আক্তারকে শোকজ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে লৌহজং ইউএনও এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রধান শিক্ষিকাকে শোকজ করেন।

আগামী তিনদিনের মধ্যে ওই শিক্ষার্থীকে কেন স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে তা জানতে চেয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষিতা হওয়ার ঘটনা জানাজানি হওয়ায় গত ৮ জুলাই লৌহজং উপজেলার মেদিনীমন্ডল ইউপির উত্তর যশলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামিমা আক্তার তাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়। পরে ওই শিক্ষার্থীর মাকে ডেকে মেয়েকে স্কুলে পাঠাতেও নিষেধ করা হয়। এসময় মেয়েকে মাদরাসায় ভর্তি করার পরামর্শ দেন প্রধান শিক্ষিকা।

লৌহজং থানার ওসি মো. আলমগীর হোসাইন জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে মেয়েটির মা বাদী হয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তারা হলেন- আলাউদ্দিন হাওলাদার, গ্রাম্য সালিশদার খলিলুর রহমান শেখ ও করিম ছৈয়াল।  

এজাহারে গত মাসের ২৪ তারিখে সকাল সাড়ে ১০টার সময় নিজ বাসা থেকে প্রতিবেশীর বাড়িতে যাওয়ার সময় আলাউদ্দিন হাওলাদার মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় মামলার পরে ধর্ষক ও সালিশদারকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়।

এদিকে নির্যাতিতা শিক্ষার্থীর মা বিচার চেয়ে গ্রামের স্থানীয় সালিশদারদের কাছে যান। সালিশকারীরা ধর্ষণের বিষয়টি মিমাংশা করে দিবে বলে, ধর্ষণের আলামত নষ্ট করে। তাই বিচার না পেয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন।

লৌহজং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো.আব্দুল কাদের মিয়া জানান, মেদিনীমণ্ডল ইউপির উত্তর যশলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামিমা আক্তারকে তিনদিনের জন্য শোকজ করা হয়েছে এবং তিন কার্য দিবসের মধ্যে কারণ দেখাতে নোটিশ দেয়া হয়েছে। 

লৌহজং ইউএনও মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খাঁন জানান, ওই শিক্ষার্থীকে কেন স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে তা জানতে চেয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং তিনদিনের মধ্যে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে হবে বলে জাবাব চাওয়া হয়েছে।  খবরঃ ডেইলি বাংলাদেশ ডট কম 

তিনি আরো জানান, জবাব দিতে না পারলে আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

Related Posts

Add Comment