নারীদের ফাঁদে ফেলে স্তন কেটে বিক্রি!

নারীর প্রতি কি নির্মম নিষ্ঠুরতা! কেনিয়ার নাইরোবিতে বোনিফেস কিমনিয়ানো নামে এক যুবক দুই বছর ধরে নারীদের স্তন কেটে নিয়ে তা বিক্রি করে দিতেন। স্তনগুলোর আকার অনুযায়ী দাম নির্ধারিত হতো। যতবড় স্তন তত বেশি দাম হাকাঁতো!

এ ঘটনা কেনিয়ার পুরো জাতিকে আতঙ্কিত করে তুলে। যেসব নারীর সঙ্গে বোনিফেস সম্পর্ক গড়ে তুলতেন তাদের বেশিরভাগই ছিলেন যৌনকর্মী। সম্পর্ক তৈরি করার পর ওই নারীদের স্তন কেটে ফেলতেন। 

সংবাদমাধ্যম কেটিএন-কে দেয়া সাক্ষাত্কারে বোনিফেস কিমনিয়ানো এসব কথা বলেন।

কিমনিয়ানো বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে নারীদের তুলে আনতাম এবং অর্থের বিনিময়ে তাদের স্তন কেটে নিতাম। তারা বেশিরভাগ অভিযান চালাতেন কোয়েনাঞ্জ স্ট্রিট এবং শহরের কেন্দ্রস্থলে, যেখানে যৌন কর্মীরা অবাধে চলাফেরা করতেন। 

তিনি বলেন, নারীদেরকে স্তন কেটে বিক্রি করার আগে আমরা তাদেরকে ফাঁদে ফেলতাম। আমরা ‘ফ্লেক্সর’ নামের রাসায়নিক ব্যবহার করে নারীদের ঘুম পাড়িয়ে দিতাম। এরপর তাদের স্তন কেটে ফেলতাম। 

তিনি বলেন, কিছু লোক ছিল আমাদের নির্দেশদাতা। তাদের মতে, এটি একটি  খুবই লাভজনক ব্যবসা। আমাদের কাজ ছিল কেবল স্তন সংগ্রহ করা এবং ‘বডি ব্রোকার’দের কাছে সেগুলো পৌঁছে দেয়া। স্তনগুলো আকার অনুযায়ী স্থানীয় মুদ্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজারে বিক্রি করা হতো। 

তিনি বলেন, যত বড় স্তন তার মূল্যও বেশি। আকারের উপর নির্ভর করে আমাদেরকে মূ্ল্য প্রদান করা হতো। 

কিমানিয়ানো স্বীকার করে বলেন, ওই কাজ করে তাদের উপার্জন ভালই ছিল। কিন্তু তিনি নিজের হাতে নারীদের ওই কষ্টভোগ দেখে মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছিলেন। তবে তিনি ওই কাজ করেছিলেন ড্রাগের খপ্পরে পড়ে। 

তিনি বলেন, ‘ব্লু মার্সিডিজ ড্রাগস’ বা ‘রেড ডেভিলস পিলস’ গ্রহণ করার পরে আপনি যেকোনো কিছু করতে পারেন(এই ড্রাগস বোধশক্তি নষ্ট করে ফেলে)। 

তবে কয়েক মাস পরে ওই গ্যাং সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়। মানবদেহের গোপনাঙ্গসহ বিভিন্ন অংশ প্রধান হাসপাতগুলোতে বিক্রির অপরাধে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এরপর থেকে ওই বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। খবরঃ ডেইলি বাংলাদেশ ডট কম 

তিনি বলেন, আমার সঙ্গীদের বেশিরভাগই গ্রেফতার হয়েছে। একটি হাসপাতালে মানবদেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গ বিক্রি হচ্ছে-এমন একটি খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। 

Related Posts

Add Comment