বগুড়া ও ময়মনসিংহে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

বগুড়া ও ময়মনসিংহে পৃথক দুই হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবার ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে বগুড়ার গাবতলীর বাহাদুরপুর গ্রামে সাবেক সেনা সদস্য ইয়াসিন আলী মোল্লা হত্যা মামলায় বাবা, ছেলেসহ একই পরিবারের ৪ সদস্যসহ ৫ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ নরেশ চন্দ্র সরকার।

একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মরাজের মা হত্যা মামলায় দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ আদালতের বিচারক এহসানুল হক। ব্যুরোর পাঠানো খবর-

বগুড়া : ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬৯) ও আবদুর রহিম (৬০), ইসমাইল হোসেনের দুই ছেলে মো. মামুন (৪৩) ও জুলফিকার আলী টুটুল (৩৫) এবং ময়েজ মোল্লার ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৫৫)। একই মামলায় দু’জন পলাতকসহ চারজনকে মেয়াদি কারাদণ্ড ও অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় ১০ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

আসামি শাহজাহান আলী সাজু ও মো. শিপনকে পেনাল কোডের ৩২৫ ধারায় প্রত্যেককে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। পেনাল কোডের ৩২৪ ধারায় পলাতক আসামি মো. সোহাগকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া পলাতক রওশন আলীকে পেনাল কোডের ৩২৩ ধারায় এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাস সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- রবিন, নুর মোহাম্মদ ফটু, আজিজার রহমান, মোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, লবির উদ্দিন, মো. বাবু, আবদুস সাত্তার, মো. লিটন ও পলাতক রাফিউল ইসলাম মানিক।

এজাহার, চার্জশিট ও আদালত সূত্র জানায়, সাবেক সেনা সদস্য ইয়াসিন আলী মোল্লা ২০০৬ সালের ৩ জুন গ্রামের আশার আলো সঞ্চয় সমিতি থেকে ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এ টাকা ছিনতাইয়ে বাধা দিলে আসামিরা তার ভাই মিঠুকে বুকে ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় ইয়াসিন আলী আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে গাবতলী থানা ১০ জুন মামলা রেকর্ড করে।

তদন্ত চলাকালে ১৩ জুন আসামিরা জামিনে ছাড়া পান। ১৭ জুন বিকালে আসামিরা ইয়াসিন আলী মোল্লার বাড়ির উঠানে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। ওইদিন তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম গাবতলী থানায় ২০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।

ময়মনসিংহ : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ গ্রামের আবদুল হেলিম (৪২) ও আবুল কাশেম (৪০)। একই মামলায় আবদুল আজিজ ও খোকন মিয়াকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার অপর ২৫ আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ বড়জোড় গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মরাজের মাকে হত্যা করে। এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মরাজের ভাই আবদুস সালাম বাদী হয়ে ৩৩ জনের নামে মামলা করেন। এদের মধ্যে দু’জন মামলা চলাকালে মৃত্যুবরণ করে এবং দু’জনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়। বাকি ২৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। আদালত ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ওই আদেশ দিয়েছেন।আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ পাল, রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম মামলা পরিচালনা করেন।

Related Posts

Add Comment