নুসরাত হত্যাকাণ্ডে সাংবাদিকদের ওপর স্টিম রোলার চালানো হচ্ছে: বিএমএসএফ

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানকার সাংবাদিকদের ওপর স্টিম রোলার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

বুধবার দুপুর ১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক নির্যাতনবিরোধী এক মানববন্ধন সমাবেশে এ অভিযোগ করে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)।

বিএমএসএফ নেতারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সোনাগাজীর পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম নিজেকে বাঁচাতে স্থানীয় সাংবাদিকদের হুমকি ও বিএমএসএফের স্থানীয় সভাপতিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন। পরদিন স্থানীয় ও ফেনী জেলার সাংবাদিকরা ফুঁসে ওঠলে মানববন্ধনের ডাক দিলে তাকে আদরের ছলে বাসায় নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন পৌর মেয়র।

বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক নির্যাতন এখনই বন্ধ করুন। সাংবাদিক নির্যাতনকারী যেই হোক কাউকে ক্ষমা করা হবে না। সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ করতে সরকারকে সাংবাদিক সুরক্ষায় যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহেশখালীর পৌর মেয়র মকছুদ উল্লাহ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক সালামত উল্লাহ।

বিএমএসএফ ঢাকা জেলা কমিটির আয়োজনে ঢাকা জেলার সহসভাপতি অহিদুজ্জামান মোল্লার সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী সুরক্ষা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র নাথ দে, আব্দুর রাজ্জাক, ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক উজ্জল ভুইয়া, যুগ্ম সম্পাদক আনিস লিমন, সাংগঠনিক সম্পাদক কবির নেওয়াজ, আমেনা ইসলাম, মানবাধিকার সম্পাদক মোনালিসা মৌ, উপপ্রচার সম্পাদক কৌশিক আহম্মেদ সোহাগ প্রমুখ।

মহেশখালীর পৌর মেয়র কর্তৃক নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক সালামত উল্লাহ কান্নাজড়িত কণ্ঠে সমাবেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সাংবাদিক নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সাংবাদিক এসএম আকাশের ওপর মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ৮-৯ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।

অপরদিকে বুধবার রংপুরের ডিবিসি টেলিভিশনের রিপোর্টার নাজমুল ইসলাম নিশাত ও ফটো সাংবাদিক মহসিন আলীর ওপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়া হয়। দিনাজপুরের বীরগঞ্জে একটি প্রতিবেদনকালে একটি সন্ত্রাসী চক্র এই হামলার ঘটনা ঘটনায় বলে বক্তারা অভিযোগ তুলেন।

সমাবেশ থেকে আগামী ১-৭ মে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করা হয়।

Related Posts

Add Comment