রমজানে কারওয়ান বাজারে ১৫০ টাকায় আট পণ্য

কারওয়ান বাজারে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হুট করে শোনা গেল বিক্রেতাদের হাঁকডাক, ‘দেড় শ টাকায় দুই দিনের ইফতার।’ ক্রেতাদের জটলাও চোখে পড়ার মতো। কাছে গিয়ে দেখা গেল, এক মোড়কে আটটি পণ্য বিক্রি করছেন তাঁরা। দাম রাখছেন দেড় শ টাকা।

এক মোড়কে আটটি পণ্যের তালিকায় রয়েছে এক কেজি করে আলু, শসা ও পেঁয়াজ, আধা কেজি করে টমেটো, বেগুন ও গাজর, চারটি লেবু আর ৩০০ গ্রাম কাঁচা মরিচ। পণ্য কিনতে আসা তেজকুনিপাড়ার মোসলেম আলী বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। পণ্যের মান মোটামুটি ভালো। সততার সঙ্গে যাঁরা ব্যবসা করছেন, তাঁদের ক্রেতা হিসেবে আমাদের আবেদন থাকবে, অন্যায্যভাবে পণ্যের মূল্য যাতে না বাড়ে, সেদিকটায় খেয়াল রাখবেন।’

ক্রেতারা জানান, এই পরিমাণ পণ্য কারওয়ান বাজার থেকে আলাদাভাবে কিনতে গেলে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা পড়বে। সে ক্ষেত্রে ভালো পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রেতারাও লাভবান হচ্ছেন।

রমজানের শুরুতে অনেকে একসঙ্গে পুরো মাসের বাজার করেন। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। ঠকতে হয় স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের। তাঁদের খানিকটা স্বস্তি দিতে এবং ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রিতে অন্যদের উৎসাহিত করতে গতকাল দুপুর থেকে কারওয়ান বাজারে এই আয়োজন করা হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

রমজানজুড়ে প্রতিদিনের ইফতারে প্রয়োজনীয় আটটি কাঁচা পণ্য দেড় শ টাকায় বিক্রি করবে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতি। গতকাল দুপুরে পরিমিত ক্রয়ে উৎসাহিত করতে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র বলেন, ‘অন্যান্য দেশে উৎসব-আনন্দে পণ্যের দাম কমে, অথচ কোনো কারণ ছাড়াই বাংলাদেশে দাম বাড়ানোর একটা প্রবণতা অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা যায়, যা একেবারেই কাম্য নয়। রমজান ইবাদতের মাস। ধর্মীয় ও নৈতিকতার দিক থেকেও এটি উচিত নয়।’ খবরঃ প্রথম আলো 

এই কার্যক্রমের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে কারওয়ান বাজার কাঁচামাল আড়ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বহুমুখী সমিতি। আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন বলেন, ‘রমজান মাস এলে বিত্তবান ক্রেতারা একসঙ্গে পুরো মাসের বাজার করেন। এতে বাজারে সংকট দেখা যায়। তাই ক্রেতাদের অনুরোধ করছি পরিমিত পরিমাণ কিনতে। একসঙ্গে অনেক পণ্য না কিনে দুই থেকে তিন দিনের বাজার একসঙ্গে করুন।’

Related Posts

Add Comment